Search This Blog

Sunday, September 25, 2022

Glorious Victory Day Of Bangladesh, গৌরবের বিজয় দিবস

ডিসেম্বর বাঙালির গৌরব অহংকার আর বিজয়ের মাস বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে বাংলার দামাল সন্তানদের রক্তক্ষয় যুদ্ধের পর 1971 সালে ১৬ই ডিসেম্বর পাকিস্তান হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পণের মধ্যে দিয়ে বিশ্ব মানচিত্রে জায়গা করে নেই বাংলাদেশ। দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয় যুদ্ধকে ছাপিয়ে একদিন সূচিত হয়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশ।

স্বাধীনতার সোপানঃ
পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালের ২৬ শে মার্চ মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয় এবং একই বছর 16ই ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভের মধ্য দিয়ে এর পরিসমাপ্তি ঘটে। এই সশস্ত্র মুক্তি সংগ্রাম ছিল বিভিন্ন ঘটনা বিরূপ পরিস্থিতি ও গুরুতর বৈষম্যের কারণে পূর্ব এবং পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্কের ক্রমাগতার অবনতির চূড়ান্তর বহিঃপ্রকাশ। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ  নিকট থেকে স্বাধীনতা লাভের পর থেকেই পাকিস্থানের দুই প্রদেশের মধ্যে যেসব ইস্যুতে সম্পর্ক অবনতি ঘটে সেগুলোর মধ্যে ছিল সংস্কার রাষ্ট্রভাষা অর্থনীতি ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে দুই প্রদেশের মধ্যে বৈষম্য ও প্রাদেশিক সাহিত্য শাসন পূর্ব পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা এবং এত সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়। ১৯৭০ এর সাধারণ নির্বাচনে জাতীয় পরিষদের পূর্ব পাকিস্তান ১৬৯ টি আসনের 177 টি আওয়ামী লীগ জয় লাভ করে এবং আওয়ামী লীগ নেতা শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের একক প্রতিনিধি হিসেবে আবির্ভূত হয়। তিনি হন পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা কিন্তু পাকিস্তানি সামরিক ও বেসামরিক নেতৃত্ব শেখ মুজিবরের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের অস্বীকার করেন। ১৯৭১ এর সাথে মার্চ শেখ মুজিবুর যে ঐতিহাসিক ভাষণ দেন তাতেই পাকিস্তানের সামরিক জান তার প্রতি তারা মনে হবে স্পষ্ট হয়ে ওঠে এরপর শুরু হয় অসহযোগ আন্দোলন ইতিমধ্যে সমস্যা নিরসনের জন্য শেখ মুজিবুর ও ইয়াহিয়া খানের মধ্যে আলোচনা শুরু হয় কিন্তু শেষ পর্যন্ত আলোচনা ব্যর্থ হয়ে যায় এবং ১৯৭১ এর ২৫ শে মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানের সেনারা বাঙালি হত্যা শুরু করে। ২৬শে মার্চ প্রথম প্রহরের অর্থাৎ ২৫ শে মার্চ দিবাগত রাতে একটাই পাকিস্তানের বাহিনী অপারেশন সার্চলাইট এর মাধ্যমে শুরু করে গণহত্যা ২৬ শে মার্চ পাকিস্তানি সেনারা শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতার করে প্রায় কাছাকাছি সময় চট্টগ্রামের কালুরঘাটে বেতার কেন্দ্র থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগের একটি নেতা স্বাধীনতা ঘোষণাপত্র পাঠ করেন এপ্রিল মাসের ৪ তারিখে মুক্তি বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তেলিয়াপাড়া অবস্থিত দ্বিতীয় ইস্ট বেঙ্গল অধিদপ্তর একত্রিত হয় এসো ভাই চারজন সিনিয়র কমান্ডারকে অপারেশনের দায়িত্ব দেওয়া হয় কর্নেল এমএ জি ওসমানী কে মুক্তিবাহিনী সর্বময় নেতৃত্ব দেওয়া হয়।
প্রবাসী সরকার-মুক্তিযুদ্ধ- বিজয়ঃ
১০ এপ্রিল 1971 তাজউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে প্রজাতান্ত্রিক বাংলাদেশের একটি প্রবাসী সরকার মুজিবনগর সরকার গঠিত হয় 10 থেকে 17 জুলাই আনুষ্ঠানিক সেক্টর কমান্ডারদের এক সম্মেলনে অপারেশন চালানোর সুবিধারদের সমগ্র বাংলাদেশকে 11 টি সেক্টর ও বিভিন্ন সাবজেক্টের বিভক্ত করা হয়। পাকিস্তানের সেনাদের কবল থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করার উদ্দম বাসনায় ছাত্র কৃষক শ্রমিক রাজনৈতিক কর্মীরা মুক্তিবাহিনীতে যোগদান করেন যুদ্ধের কৌশল অস্ত্র চালনা ও বিস্ফোরক সম্পর্কে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন কলিকাতার ৮ নং থিয়েটার রোডের বাংলাদেশ বাহিনীর সদর দপ্তর স্থাপিত হয় ১২ই এপ্রিল থেকে এই সদর দপ্তরের কার্যক্রম শুরু করে। লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এ রব এবং গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার কে যথাক্রমে চিপ অফ স্টাফ এবং ডেপুটি চিপ অফ স্টাফ নিয়োগ করা হয়। ২৮ শে সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ বিমান বাহিনী গঠিত হয়। এ সংগঠক ছিল এয়ার কমান্ডার একে খন্দকার অনুরূপভাবে পাকিস্তানি বাহিনী থেকে বেরিয়ে আসার সৈনিকদের নিয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনী গঠিত হয় ১৯৭১ সালের নভেম্বর মাসে মুক্তিবাহিনী ও ভারতের বাহিনীর যৌথ কমান্ডার গঠিত হয় ভারতের সৈন্য এবং ১১ নম্বর সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধারা ১৪ই ডিসেম্বর ঢাকার টঙ্গীর কাছে পৌঁছায় ১৬ ডিসেম্বর সকালে তারা সবাই সাভারে অবস্থান নেই। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিকাল পাঁচটায় এক মিনিটের রমনা রেসকোর্স ময়দানে যৌথ কমান্ডারের পক্ষে লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগদীশ সিং অরোরা এবং পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলের কমান্ডারের পক্ষে লেফটেন্যান্ট জেনারেল পাকিস্তানের আত্মসমর্পণের দলিল স্বাক্ষর করেন। এভাবেই সুজিত হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা।

No comments:

Post a Comment